হাওজা নিউজ এজেন্সি’র প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ১৪০৫ হিজরি শামসি সালের আরবাঈন উপলক্ষে আয়োজিত দেশব্যাপী ধর্মপ্রচারক (মুবাল্লিগ) সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সম্মেলনটি আজ সকালে ইরানের কোম শহরে হজ ও জিয়ারত সংস্থায় সর্বোচ্চ নেতার প্রতিনিধির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।
হুজ্জাতুল কুহসারি বলেন, আরবাঈন নিছক একটি সামাজিক ঘটনা নয়; বরং এটি আল্লাহর ইচ্ছার এক উজ্জ্বল প্রকাশ, বিশ্বের বৃহত্তম মানবসমাবেশ, আহলুল বাইত (আ.)-এর শিক্ষার পরিচয় তুলে ধরার শক্তিশালী মাধ্যম এবং প্রজ্ঞা, ভালোবাসা, ঈমান ও মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের প্রতীক।
তিনি আরও বলেন, আরবাঈন একটি সম্পূর্ণ আধ্যাত্মিক আন্দোলন, যা বিকৃতির ঊর্ধ্বে। এটি বর্তমান বিশ্বে প্রতিরোধের চেতনার বিকাশের প্রতীক এবং আধিপত্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে মুসলিম জাতিগুলোর সম্মিলিত প্রস্তুতির বহিঃপ্রকাশ। একই সঙ্গে এটি মুসলিম বিশ্বের মর্যাদা, সংহতি ও আত্মমর্যাদাবোধের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার আরবাঈনবিষয়ক বক্তব্য ও চিন্তাধারার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ধর্মপ্রচারকদের এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ ধারণা থাকতে হবে এবং তা জিয়ারতকারীদের কাছে সঠিকভাবে তুলে ধরতে হবে। কারণ, অনেক জিয়ারতকারী এখনও আরবাঈনের আদর্শিক, জ্ঞানগত, সভ্যতাগত ও কৌশলগত গুরুত্ব সম্পর্কে পর্যাপ্ত অবগত নন। ফলে এ ক্ষেত্রে ধর্মপ্রচারকদের দায়িত্ব আরও বেড়ে যায়।
তিনি বলেন, এ বছরের আরবাঈনের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। গত এক বছরে ইরাক ও প্রতিরোধ অক্ষে সংঘটিত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাপ্রবাহের ধারাবাহিকতায় এবারের আরবাঈন একটি তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়। তাই এসব অর্জন ও অভিজ্ঞতা আরবাঈনের সাংস্কৃতিক পরিসরে জিয়ারতকারীদের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন।
দেশের অভ্যন্তরে ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মসূচির প্রাণচাঞ্চল্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে কুহসারি বলেন, আরবাঈনের সময় দেশের কিছু গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিও অনুষ্ঠিত হবে। তাই জিয়ারতকারীদের উচিত পরিকল্পিতভাবে ইরাকে অবস্থানের সময় নির্ধারণ করা, যাতে জিয়ারতের পাশাপাশি দেশের কর্মসূচিগুলোও ব্যাহত না হয়।
তিনি বলেন, অবস্থানের সময় কিছুটা কম হলেও সাংস্কৃতিক উপস্থিতির মান বাড়াতে হবে। আরবাঈনের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া, প্রতিরোধের চেতনা জোরদার করা এবং মুসলিমদের মধ্যে ঐক্য সুদৃঢ় করার জন্য এ সুযোগ সর্বোচ্চভাবে কাজে লাগাতে হবে।
তিনি প্রস্তাব করেন, পদযাত্রাপথের নির্দিষ্ট সময়ে বিভিন্ন মাওকিবে ইরানি জিয়ারতকারীদের অংশগ্রহণে সমন্বিত সাংস্কৃতিক ও প্রেরণাদায়ক কর্মসূচির আয়োজন করা যেতে পারে। এর মাধ্যমে আরবাঈনের পরিবেশে ইরানি জনগণের ঐক্য, সংহতি ও আধ্যাত্মিক উদ্দীপনার বহিঃপ্রকাশ আরও সুস্পষ্ট হবে।
হুজ্জাতুল ইসলাম কুহসারি ইরাকের জনগণ, নাজাফের শীর্ষ আলেম, মারজায়ে তাকলিদ এবং বিশেষ করে আয়াতুল্লাহ আল-উজমা সাইয়্যিদ আলি সিস্তানির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আরবাঈন আয়োজনের ক্ষেত্রে ইরাকের জনগণের আন্তরিক আতিথেয়তা এবং দেশটির আলেম-উলামা, গোত্রপ্রধান, বুদ্ধিজীবী ও সরকারি কর্মকর্তাদের সহযোগিতা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এসব অবদানের বিষয়ও জিয়ারতকারীদের সামনে তুলে ধরা উচিত।
তিনি আরও জানান, এ বছর প্রধান পদযাত্রাপথের পাশাপাশি ইরাকের অন্যান্য অঞ্চলে, আন্তর্জাতিক মাওকিবগুলোতে, বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক সেমিনার ও আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বিশেষ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। বিভিন্ন দেশের জিয়ারতকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে ধর্মপ্রচারকেরা সক্রিয় ভূমিকা পালন করবেন।
তার ভাষায়, বিদেশি জিয়ারতকারীদের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করা, আন্তর্জাতিক মাওকিবগুলোতে সাংস্কৃতিক কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং বিভিন্ন দেশের জিয়ারতকারীদের মধ্যে ধর্মপ্রচারকদের সক্রিয় উপস্থিতি নিশ্চিত করা—এ বছরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা। এর মাধ্যমে আরবাঈনের বৈশ্বিক বার্তা আরও বিস্তৃতভাবে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
বক্তব্যের শেষে হুজ্জাতুল ইসলাম কুহসারি আশা প্রকাশ করেন, ইমাম হুসাইন (আ.)-এর আরবাঈনকে কেন্দ্র করে পরিচালিত সব ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও দাওয়াতি কার্যক্রম ইমাম মাহদী (আ.ফা.)-এর আবির্ভাবের অনুকূল পরিবেশ গড়ে তুলতে এবং আহলুল বাইত (আ.)-এর শিক্ষা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আপনার কমেন্ট